সাভারে বিউটি আক্তার (৩০) নামের এক নারীর গলাকাটা মরদেহসহ ৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। মঙ্গলবার (২২ ফেব্রুয়ারি) তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের দক্ষিণপাড়া এলাকার একটি ভাড়া বাসা থেকে ওই গৃহবধূর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এরআগে গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত উপজেলার বিভিন্ন স্থান থেকে ৪ জনের ঝুলন্ত মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত বিউটি আক্তার সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর থানার চড়পানাগাড়ি গ্রামের বাসিন্দা। তিনি বর্তমানে তেতুঁলঝোরায় ফয়সাল হোসেনের বাড়ির একটি কক্ষ ভাড়া নিয়ে বাস করে আসছিলেন। পুলিশ জানায়, ওই এলাকার একটি ভাড়া বাড়িতে বিউটির গলাকাটা মনদেহ দেখতে পায় প্রতিবেশীরা। পরে সাভার মডেল থানায় খবর দিলে মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তবে হত্যার রহস্য এখনও উদঘাটন করা সম্ভব হয় নি।

সাভার মডেল থানার ট্যানারি ফাড়ি ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক জাহিদুল ইসলাম বলেন, স্বামীসহ এখানে বসবাস করতেন বিউটি আক্তার। তবে স্বামী নিয়মিত থাকতেন না। মাঝেমধ্যে আসতেন। তারও বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায়নি। স্থানীয়দের মতে গত দুইদিন আগে তার স্বামীকে দেখেছেন। তাকেও খোঁজা হচ্ছে। তবে কি কারণে হত্যা করা হয়েছে এবং কারা হত্যা করেছে বিষয়গুলো তদন্ত চলছে।

এছাড়া গতকাল সোমবার রাত থেকে আজ (২২ ফেব্রুয়ারি) পর্যন্ত ৪ জনের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। সোমবার রাতে সাভারের বিরুলিয়া ইউনিয়নের বাগ্নীবাড়ি ৫নং ওয়ার্ডের ফকির পাড়ায় নিজ বাড়ি থেকো মোহাম্মদ ওয়ালিন ফকিরের ছেলে মোঃ সালমান ফকিরের ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া সোমবার রাতে তেঁতুলঝোড়া ইউনিয়নের জয়নাবাড়ি এলাকার একটি বাড়ি থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ২২ বছর বয়সী নারী, একই রাতে হেয়ামেতপুরে ভরারী এলাকা থেকে ২৫ বছরের এক নারীর ঝুলন্ত মরদেহ, মঙ্গলবার সকালে কাউন্দিয়া ইউনিয়নের একটি বাড়ি থেকে ফ্যানের সাথে ঝুলন্ত অবস্থায় ২৫ বছর বয়সী এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তাদের বিস্তারিত পরিচয় পাওয়া যায় নি।

সাভার মডেল থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) মো. মোমিনুল ইসলাম মরদেহ উদ্ধারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, নিহতদের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা ৪টি ঘটনাই আত্নহত্যা। তবে হেমায়েতপুরে গলাকাটা নারীর ঘটনাটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড। সবগুলো ঘটনা নিয়েই তদন্ত চলছে।